পানীয় জল ও রাস্তার দাবিতে গ্রামে পোস্টার লাগিয়ে ভোট বয়কটের ডাক গ্রামবাসীদের। ঘটনাটি পুরাতন মালদার দক্ষিন মালকোরা গ্রামের। যদিও এই গ্রামে পানীয় জলের অভাবের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক।
পুরাতন মালদার ভাবুক গ্রামপঞ্চায়েতের দক্ষিন মালকোরার ঘাসি পাড়া ও পশ্চিম বাঞ্জা পাড়ায় পাঁচ শতাধীক মানুষ বসবাস করেন। মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এই দুই গ্রামে নেই কোন পানীয় জলের ব্যবস্থা। শুধু পানীয় জল নেই তা নয়, এলাকার সঙ্গে শহরের যোগাযোগের একমাত্র যে মাধ্যম হচ্ছে রাস্তা, তারও সুব্যবস্থা নেই এই গ্রামে। ফলে জীবন নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় পানীয় জল এলাকারই এক পুরনো পাত কুয়ো থেকে সংগ্রহ করেন এলাকার মানুষজন। এক কথায় এই কুয়োর জল খেতে বাধ্য হন গ্রামবাসীরা। এই পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের জন্য বার বার এলাকার অঞ্চল প্রধান থেকে বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা গ্রামবাসীদের এই দুই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোন ফল হয়নি। বারবার রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মিথ্যে আশ্বাস পেয়ে এবার রীতি মতো পোস্টার লাগিয়ে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল মিথ্যে আশ্বাসে নাজেহাল ওই দুই গ্রামের বাসিন্দারা।
এদিন এই ভোট বয়কটের কারন বলতে গিয়ে গ্রামের মানুষেরা অভিযোগ করে বলেন, তারা বহু বছর ধরে এই ভাঙা কুয়োর জল খেয়ে আসছেন, কখনও বা এই কুয়োতে সাপ ব্যাঙ মরে পড়ে থাকছে। ফলে তখন তাদের বহু দূর থেকে পানীয় জল নিয়ে আস্তে হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে বিভিন্ন দপ্তের তারা বহু বার আবেদন করেছেন কিন্তু কোন ফল হয়নি। তাই তারা বাধ্য হয়েই এই ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন।
যদিও গ্রামবাসীদের এই সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা পাওলিনা মার্ডি। তিনি বলেন, এক সঙ্গে সমস্ত গ্রামের কাজ তাদের দেওয়া হয়না। তবে আশেপাশের বেশ কিছু গ্রামে কাজ হয়েছে, শুধু এই দুই গ্রামে কাজ হয়নি।
এদিকে পানিয় জলের সংকটের সত্যতা স্বীকার করে নেন পুরাতন মালদার বিডিও নরত্তম বিশ্বাস। তিনি বলেন ওই এলাকায় জলের জন্য কয়েকটি প্রজেক্ট ধরা হয়েছে। নির্বাচন পেরলো কাজ শুরু হবে। তবে গ্রামবাসীদের ভোট বয়কটের কথা জানা নেই বলে তিনি জানান।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/BJGxixMyTsI